যতদিন সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ বাড়বে ততদিন দেশের বেকারত্বের হার বাড়তেই থাকবে;
দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ লাখ ৯০ হাজার লোক বেকার রয়েছেন যেখানে সরকারি চাকরি রয়েছে আনুমানিক ১৩-১৪ লাখ যার মধ্যে ৮০% এর উপরে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির যেখানে এইট ও ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে জব করে থাকেন। কথা হচ্ছে ধরেন প্রায় ৩ লাখের মতো ১ম ও ২য় শ্রেণির জব রয়েছে সেখানে প্রায় ১৮ কোটি লোকের মধ্যে কতজন সরকারি জব করতে পারবেন? এই বছর নতুন করে লাখ খানেকের উপরে বেকার হয়েছেন।
তাহলে দেশের সকল মফস্বল এরিয়ায় কেজি স্কুলে ৮-১০ হাজার টাকা মাসিক খরচে পড়াচ্ছেন তারা গ্রেজুয়েট হয়ে আট দশ হাজার টাকা কি ইনকাম করতে পারবে? চতুর্থ শ্রেণির জবের বেতন কত জেনে নিবেন আর বাসা বাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলে মাস শেষে কত থাকে সেই হিসেব বাদই দিলাম।
অনেকে
সেলারির কথা চিন্তা না
করে ভাবছেন Government Job পেয়ে গেলেই ঘুষখোর
হয়ে বাড়তি টাকা আয় করে
নিবেন, আবার অনেকে ভাবছেন
ঘুষ দিয়ে জব পেয়ে
যাবেন, অনৈতিক ভাবে পেয়ে গেলেন
ধরে নিলাম কিন্তু চাকরিতে ঢুকার পর দেখবেন সেই
ঘুষের টাকা যেভাবে ভাবছেন
সহজে তুলে নিবেন কিন্তু
ভিতরে ঢুকে দেখছেন এতো
সহজ না। ফলে অন্যান্য
অপরাধ জগতে যুক্ত হওয়ার
পায়তারা করছেন। এভাবে হতাশায় দিন যাচ্ছে নাতো?
আবার অবৈধভাবে আয় করলেন ধরে
নিলাম, দিনশেষে বড় অসুখে সব
টাকা যাচ্ছে নাতো?
আবার বয়সের শেষ দিকে আপনার সন্তান নিজেকে ফেলে চলে যাচ্ছে নাতো? আপনাকে বিদ্যাশ্রমে পাঠাচ্ছে নাতো? এদিকে যারা মেধায় কষ্ট করে জব পেয়ে গেছেন তাঁরা কতটুকু সৎ ভাবে জব করতে পারছেন উনারাই ভালো জানেন? উপরের মহল থেকে কোন চাপ আসছে নাতো, ফাইল আটকিয়ে না রেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী কাজ করতে হচ্ছে নাতো যেখানে নিজের ইচ্ছা থাকলেও কিছু করার থাকছে না!
অধিকাংশ ব্যক্তি যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আপনার প্রতিকূলে সেখানে আপনি সৎ হয়ে অসতের ট্যাগ পাচ্ছেন নাতো? হয়তো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় শিফট হচ্ছেন, সেখানেও গিয়ে কমফোর্ট ফিল করছেন না! তাহলে এভাবে জবে না থেকে বিদেশ (ইউরোপে) ফাড়ি দেয়ার চিন্তা করছেন নাতো? এগুলো প্রথম থেকে আমলাতান্ত্রিক পরিবেশ সম্পর্কে কত জন খোঁজ নেন, যেকোন জবে ঢুকার আগে ভালোভাবে জেনে নিন সেখানে কিভাবে সকল কাজ হয়ে থাকে, যদি সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে অয়ারেন তাহলে জয়েন বা জবের প্রিপারেশন নিতে পারেন তা হোক প্রাইভেট সেক্টর কিংবা সরকারি সেক্টর।
প্রাইভেট সেক্টর নিয়ে অন্যদিন লিখবো, আমার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, যেখানেই কাজ করবেন সেখানে স্থায়ীভাবে না থাকলে অন্যের চাকরি থেকে বঞ্চিত না রেখে আগে থেকেই স্থীর সিদ্ধান্ত নিন আপনি আসলে কোন জায়গায় ভালো থাকবেন। সরকারি জবের অনেক সুবিধা রয়েছে এগুলো সবাই জানেন কিন্তু আজ অসুবিধা নিয়ে কথা বলার কারণ হচ্ছে বাহিরে থেকে যেভাবে বুঝা যায় বাস্তবে সেরকম না। ধরেন আপনার সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করালেন কিন্তু ৩ বছর পরপর ট্রান্সফারের কারণে অন্যত্র যেতে হলো, এতে সন্তান যে স্কুলে পরিচিত হলো সেখানের মায়া ছেড়ে অন্য জায়গায় যাবার পর আবার সেখানে থেকে অন্যত্র স্থানান্তর হতে হয়ে, এভাবে বিভিন্ন জেলায় কাজ করতে হয়। এগুলো পরিবার ভালো বুঝতে পারবনে। আবার স্ত্রী বা ভাই ভাতিজা এভাবে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে জবে জয়েন করতে হয়, এতে যৌথ পরিবার বা বড় পরিবারে থাকার সুযোগ নাই বললে চলে।
তাছাড়া রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে কিনা, গ্রামের বাড়ি মাসিক যাতায়াত খরচ, ইত্যাদি। বাহিরে থেকে অনেকি ভাবছেন ভালোই বেতন পাচ্ছেন কিন্তু অনেককে সাহায্য করতে পারছেন না, তারা ভুল বুঝছেন নাতো? আবার বাড়তি ইনকামের জন্য বিপথে পা বাড়াচ্ছেন নাতো? গ্রামের বা আত্মীয় স্বজনদের মাসে দূরের কথা বছরে কতটুকু সময় দিতে পারছেন? অবসরে গ্রামে এসে কমফোর্ট ফিল করতে পারছেন তো? নাকি শহরে একা শেষ বয়স পার করে দিচ্ছেন?
এগুলো নিয়ে কেউ ভাবেন না, মনে করে আগে বাঁচি, পরে দেখা যাবে কি হয়? কিন্তু সেই বাঁচা আধা মরার মতো কিনা ভেবে নিবেন? সেজন্য বিকেন্দ্রীকরণ করা দরকার, এতে সবাই নিজ নিজ উপজেলায় না হোক, নিজ নিজ জেলায় থাকতে পারবেন। এতে বিবিধ খরচ কমার পাশাপাশি রিলেটিভের সাথে দেখাসাক্ষাৎ করতে পারবেন। আবার অনেকের পেনশন স্কিম বাধ্যতামূলক, এতে জমানো টাকায় সুদ গ্রহণ করা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে থাকছেন নাতো? আজ এখানেই রাখছি, ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন, মন্তব্য করতে ভুলবেন না। গুড বাই..
See more..


কোন মন্তব্য নেই