চাকরিতে ঢুকার আগে কাজ সম্পর্কে বেসিক ধারণা না থাকলে প্রতিষ্ঠান ও নিজের যে ক্ষতি;
যেকোন চাকরিতে জয়েন করার আগে কোন পদ ও তার মূল কাজ ও উদ্দেশ্য কি তা জানা না থাকলে সময় ও অন্যান্য দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতে হয়। ভাবতে পারেন জবে না ঢুকলে কাজের এক্সপেরিয়েন্স হবে কিভাবে? যেখানে নিখুঁত কাজ জেনে জয়েন করার কথা বলা হচ্ছে না, এখানে অল্প আইডিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সেই কাজে পারদর্শী হওয়া যাবে কাজের মাধ্যমে কিন্তু কি কাজ সে-সম্পর্কে না বুঝে গেলে জব ছাড়ার সম্ভাবনা থাকে যেখানে অন্য ব্যক্তির পদ থেকে বঞ্চিত করলেন পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে লোক নেয়ার বাড়তি কাজ বাড়িয়ে দিলেন। সেজন্য চাকরিতে কি কি কাজ লাগতে পারে সেই প্রতিষ্ঠান ও পদের অবস্থান বুঝে ধারণা করা সম্ভব নতুবা গুগল / ইউটিউব থেকে জেনে নিতে পারেন।
সাধারণত, মাঝারি ধরনের পদে বেশিরভাগ কম্পিউটারে এক্সপার্ট হতে হয়, ইংলিশে দক্ষ ও হাতের লেখায় পারদর্শী থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বড় পদে প্রবেশের জন্য জ্ঞানের ভান্ডার না থাকলে প্রতিষ্ঠানকে ভালো কিছু দেয়া কঠিন, সেখানে সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত ও বিচক্ষণতার পরিচয় সব সময় বহন করতে হবে। এজন্য প্রতিদিন নিউজ পড়া, একাডেমিকের বাহিরের বই পড়া ও গবেষণায় মনোযোগী হতে পারলে সমাজে বা প্রতিষ্ঠানে নতুনত্ব নিয়ে আসা সহজ। যেকোনো কাজ স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন করার মানসিকতা ও কাজে অবহেলা না করার পাশাপাশি সময়ের কাজ সময়ে শেষ করা গুণী অফিসারের প্রধান বৈশিষ্ট্য। শুধু তাই নয়, কাজের প্রতি অনিহা না থাকা, যত ধরণের প্রতিকূলতা থাকুক সময়মতো অফিসে আসা ও ড্রেসকোড মেইনটেইন করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের রুলস এন্ড রেগুলেশন সঠিক ভাবে পালন করতে পারলেই যেকোন ইনস্টিটিউটকে ভালো একটা পজিশনে নেয়া সম্ভব।
আপনি যত বড় প্রধান পদে থাকুন না কেন, মার্কেটিং সম্পর্কে পূর্ণ আইডিয়া থাকতে হবে, প্রয়োজনে ফিল্ডে গিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সেল বাড়াতে যা করণীয় তা করতে হবে। মানসিক শক্তি নিয়ে লেগে থেকেই কাজের ধারাবাহিকতা থাকলে লাভবান হওয়া সম্ভব। নতুবা প্রতিষ্ঠানের টার্গেট দূরের কথা, নিজেরই Target ফিলাপ করা কঠিন হয়ে যাবে। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে সময়মত ঘুম, গোসল ও খাওয়াদাওয়া সম্পন্ন করা আবশ্যক। সাংসারিক যতই ঝামেলা থাকুক, প্রতিষ্ঠানে হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করা ও প্রাণবন্ত রাখায় অবদান থাকতে হবে।
লেজি ভাব দূর ও কাজের মাত্রা দিনদিন বাড়াতে হবে। নির্ভুল কাজ করা ও নিজের দ্বায় এড়িয়ে না গিয়ে আনন্দের সাথে অফিসের পরিবেশ শান্ত রাখাও একটা বড় গুণ। তাছাড়া সাধারণ নলেজ থাকার পাশাপাশি আইনী জ্ঞান থাকলে প্রতিষ্ঠানকে বিপদমুক্ত রাখা সহজ, এসব গুণাবলি থাকলে অফিসের যেকোন পদেই যান না কেন, দক্ষতার সাথে সকল কাজের অগ্রগতিতে নিজের অবস্থান থাকবে সবার উপরে। কাজকে প্যারা না ভেবে এটাকে ইনজয় হিসেবে ধরে নিতে হবে কারণে জীবনের এক তৃতীয়াংশ এখানে কাটিয়ে নিতে হবে, বাকি একতৃতীয়াংশ ঘুম ও একাংশ সাধারণ জীবনে চলে যাবে।
অন্যকে ব্লেইম ও ক্ষতি করার অপচেষ্টা এড়িয়ে যেতে পারলেই শান্তি ও সুখের মাত্রা বাড়তে থাকবে। লোভ, হিংসা জেদ এড়িয়ে গেলে উন্নতি কোন না কোন ভাবেই টেকসই হবে। নতুবা সাময়িক অগ্রগতি হলে দিনশেষে আবার জায়গায় ফিরে আসতে হবে তা হোক দেরিতে কিংবা অল্প সময়ে। আজ আর লিখছি না, কথা ববে নতুন কোন বিষয়ে নতুন কোন ধারণা নিয়ে, সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন, ভালো রাখুন। বাই..


কোন মন্তব্য নেই